ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ , ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির পাতিগ্রাম ও পাঁচঘরিয়া এলাকায় নতুন করে বাড়ীঘরে ফাটল ও তলিয়ে যাচ্ছে আবাদি জমি॥

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৭-২২ ১৮:৪২:১২
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির পাতিগ্রাম ও পাঁচঘরিয়া এলাকায় নতুন করে বাড়ীঘরে ফাটল ও তলিয়ে যাচ্ছে আবাদি জমি॥ বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির পাতিগ্রাম ও পাঁচঘরিয়া এলাকায় নতুন করে বাড়ীঘরে ফাটল ও তলিয়ে যাচ্ছে আবাদি জমি॥
মোঃ আফজাল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি



দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকার পাতিগ্রাম পাঁচঘরিয়া নতুন করে বাড়ীঘরে ফাঁটলতলিয়ে যাচ্ছে আবাদী জমি| ভূমি ও বসতবাড়ি রক্ষা কমিটি ৭ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে ইতোপূর্বে বহুবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেও কোনো সুফল পাননি| গতকাল বুধবার দুপুরে পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের পাতিগ্রাম ও পাঁচঘরিয়া এলাকার গ্রাম দুটিতে ঘুরে দেখা যায় প্রায় বাড়ীতে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে| অপর দিকে গ্রামের পূর্বদিকে ভূ-গর্ভের নিচ থেকে কয়লা উত্তোলনের কারণে প্রায় সাড়ে ৩ ফিট তলিয়ে গেছে| এতে প্রায় ১শত একর জমিতে ৪ ফিট পানি জমা হয়েছে| গভীর রাতে ভূ-গর্ভে প্রচন্ড কম্পনের কারণে বাড়ী ঘরে ফাটল ধরছে| এতে গ্রামের লোক আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে|


কমিটির সভাপতি মোঃ মতিয়ার রহমান বলেন, "আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় নানা সমস্যা নিয়ে জীবন যাপন করছি| কয়লা তোলার কারণে ভয়ে বসতবাড়িতে রাত্রিযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে| যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে|" তিনি আরও জানান, গত বুধবার গভীর রাত্রিতে অতিবৃষ্টি হওয়ায় পাতিগ্রাম ও পাঁচঘরিয়া গ্রামের পূর্ব দিকে একের পর এক আবাদি জমি তলিয়ে যাচ্ছে এবং জমিতে পানি জমে থাকছে| এই জমিতে কোনোভাবে চলতি বছর আমন ধান চাষ করা সম্ভব নয় কৃষকদের| এতে ৩ শত একর জমি চাষাবাদের ক্ষতি হবে| কেননা ৩ ফিট তলিয়ে গেছে| ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িঘর ও জমি এককালীন অধিগ্রহণ করার দাবি জানান| এছাড়া খনি কর্তৃপক্ষ পাতিগ্রাম ও পাঁচঘরিয়া গ্রাম দুইটির কোনো জমি অধিগ্রহণ করেননি| তারা নতুন করে এদিকে কয়লা উত্তোলন শুরু করায় এই গ্রাম দুটি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে| এ দিকে ২ যুগ ধরে খনির কারণে এই এলাকার মানুষের অফুরন্ত ক্ষতি সাধন হয়েছে| স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, হাট-বাজার, কবরস্থান, রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়ে গেছে|


এই এলাকায় এখন আর কেউ বসবাস করতে চায় না| কারণ এলাকার মানুষ খনির কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে | একই কথা বলেন গ্রামের মোঃ সাগির ইসলাম, আকাশ মাহমুদ হিটলার, ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের, মোঃ আবু তাহের এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফরহাদ আলী| এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ শাহ& আলম এর সাথে গতকাল বুধবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন গ্রহণ করেননি বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কারণে পাতিগ্রাম ও পাঁচঘরিয়া গ্রামে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হলে এর দায়ভার খনি কর্তৃপক্ষকে নিতে বলে সংগঠনের সভাপতি মোঃ মতিয়ার রহমানসহ এলাকাবাসী জানান|

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ